প্রবন্ধমনন-অনুধাবন

শুভবুদ্ধির উদয় হোক – বাংলা বাঁচুক

একটি বিষয় পরিষ্কার হয়ে গেছে যে, এই ভোটে সিপিএমের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে, মমতাকে সরানো। একথা কখনো প্রকাশ্যে খুব সোচ্চারে বলা না হলেও যেটুকু বলা হয়েছে তাতেই তা পরিষ্কার। এর অবশ্যম্ভাবী পরিণাম যে বিজেপির বঙ্গদখল, তা জেনেও কোন দ্বিধা বা সংকোচ নেই সিপিএমের।

কিন্তু রাজ্যের গণতন্ত্রপ্রিয় ও ফ্যাসিবিরোধী মনোভাব সম্পন্ন মানুষেরা বাঙালির কৃষ্টি ও ঐতিহ্যের এই সর্বনাশা পরিণতি রুখতে চায়। ফলে বিজেপিকে রুখতে নানা উদ্যোগ সর্বত্র দেখা যাচ্ছে। এর মানে এটা নয় যে, বিজেপি বিরোধিতার আড়ালে মমতাকে যেনতেন প্রকারে জেতানো। এর লক্ষ্য – বিজেপির পরাজয়কে নিশ্চিত করা এবং তৃণমূল-সিপিএমের যৌথ উদ্যোগে কোন এক জনমুখী সরকার গঠন করা নির্দিষ্ট নীতি, কর্মসূচি ও প্রাত্যহিক যৌথ নজরদারিতে।

মমতা একক শক্তিতে সরকার গড়ুন, এটা নিশ্চয়ই সিপিএমের কাম্য নয়, কিন্তু তাঁদের উপর নির্ভরশীল সরকার নিশ্চিতভাবেই বর্তমান কঠিন পরিস্থিতিতে অধিক গ্রহণযোগ্য ও দলের পক্ষেও লাভজনক। তেমনই সম্ভাবনাকে মাথায় রেখে একটি প্রস্তাব রাখা হচ্ছে বিবেচনার জন্য।

প্রস্তাব: – মোট ২৯৪টি আসনের মধ্যে ১৫০টি (১০০+৫০) আসনে যদি ১:১ লড়াই হয় এবং বাকি ১৪৪টি আসনে ত্রিমুখী লড়াই হয়, তাহলে বিজেপির পরাজয় নিশ্চিত হয় এবং মমতাকেও সরকার গঠনে সিপিএমের উপর নির্ভরশীল হতে হবে, যদি না সিপিএমের আন্দাজকে পুরো ব্যর্থ করে মমতার পক্ষে নিচুতলার ভোট পুরোপুরি যায়।

এই আংশিক বোঝাপড়ার প্রস্তাবটি একারণেই যে, সম্পূর্ণ বোঝাপড়ার কোনো সম্ভাবনাই নেই বর্তমানে। তবুও যদি কোনরকম বোঝাপড়াতেই সিপিএম রাজি না হয় এবং শেষপর্যন্ত মোদিই বঙ্গের দখল নেয়, তবে তার জন্য সিপিএম কিন্তু দায় এড়াতে পারবেনা। আর যে সুখস্বপ্নে বিভোর হয়ে আছে, মোদি এসে মমতাকে ধ্বংস করবে ও সিপিএমকে রেহাই দেবে, তেমনটিও কিন্তু হবে না বাস্তবে। কারণ মোদি তার বিপদ সম্বন্ধে যথেষ্ট ওয়াকিবহাল। ফলে, ভুললে চলবে না – ‘ইউনাইটেড উই স্ট্যান্ড, ডিভাইডেড উই ফল’। সিপিএমের শুভবুদ্ধির উদয় ঘটুক, বাংলা বাঁচুক।

কল্যাণ সেনগুপ্ত