ফিচারমনন-অনুধাবনরাজ্য

নেতাজি সুভাষচন্দ্র ও বরানগরের স্মৃতি

ঐতিহ্যের দিক থেকে বরানগর সমৃদ্ধ সততই। সেখানে ইতিহাস-সংস্কৃতি যেন একসঙ্গে এসে ধরা দিয়েছে। এই প্রাচীন নগরের নামকরণ নিয়ে নানা ধরনের গল্প শোনা যায়। কেউ বলেন ‘বরাহনগর’। কেউ আবার বলেন ‘বরানগর’। কথিত আছে অতীতে এই গ্রামে বরাহ নামের এক মুনি বাস করতেন। তাঁর নামানুসারেই এই গ্রামের নাম হয়েছিল। কারো মতে বিক্রমাদিত্যের নবরত্ন সভার বরাহমিহিরের নাম থেকে এই স্থানের নামকরণ।

জায়গাটি কখনও ছিল ডাচদের, কখনও ব্রিটিশ আবার তা কখনও কখনও স্থানীয় জমিদারদেরও অধীনে থেকেছে। স্বাধীনতা সংগ্রাম, ধর্ম, সাহিত্য নানা বিষয়ে অসামান্য উৎকর্ষতা এখানে উঠে এসেছে।

বরানগরে নেতাজি জয়ন্তী উদযাপন

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর স্মৃতি বহন করে চলেছে বরানগরের বেশ কয়েকটি জায়গা। তাঁর পদার্পণে জনসাধারণের কাছে সেগুলো চিরস্মরণীয় হয়ে আছে।

আরো পড়ুন : কলকাতার গৌরব বোর্ন অ্যান্ড শেফার্ড

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মামার বাড়ি ছিল বরানগরের কাশীনাথ দত্ত রোডে। তাঁর মামা রবীন্দ্রনাথ দত্ত। তিনি ‘রবি দত্ত’ নামে স্থানীয়দের কাছে পরিচিত ছিলেন। রবীন্দ্রনাথ দত্তের মৃত্যুর পর বাড়িটি বিক্রি হয়ে যায়। বাড়িটি নির্মাণ করেছিলেন কাশীনাথ দত্ত। যার নামে আজও রাস্তাটির নাম কাশীনাথ দত্ত রোড নামে পরিচিত।

বরাহনগরের বিশ্বাস বাড়ি। এই বাড়িতে আজাদ হিন্দ ফৌজের অস্থায়ী ক্যাম্প ছিল।

১৯৩৯ সালে সুভাষচন্দ্র কংগ্রেস সভাপতি হওয়ায় পর তাঁকে সংবর্ধনা দেওয়া হয় বরানগরের বামনদাস কালী মন্দিরে।

আরো পড়ুন : রানি ভবশঙ্করীকে ‘রায়বাঘিনি’ উপাধি দেন সম্রাট আকবর

এছাড়া বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সুবাদে সুভাষচন্দ্র বহুবার বরানগরে এসেছিলেন। যেমন এখানকার ভিক্টোরিয়া স্কুল, বরানগর পিপলস লাইব্রেরি ইত্যাদি জায়গায় তাঁর পা পড়ে।

বামনদাস কালী মন্দির

স্বাধীনতা প্রাপ্তির কয়েক মাস আগে সুভাষচন্দ্রকে আমরা হারাই। আর স্বাধীনতা লাভের কয়েক মাসের মধ্যে মহাত্মা গান্ধিকে। তবে সুভাষচন্দ্র বিশ্বাস করেন স্বাধীনতার আর বেশি দেরি নেই। তিনি কোথায় গেলেন, সেই রহস্য আজও কাটেনি।

নেতাজি একটি জনসভায় বলেছিলেন, ওই যে দেওয়াল রয়েছে, দেওয়াল একটা বড়ো শক্তি। একা আমরা ভাঙতে পারি না। কিন্তু আমরা সবাই যদি দেওয়ালটাকে চেপে ধরি তা হলে দেওয়ালটা ঠিকই পড়ে যাবে। তেমনই ব্রিটিশ রাজশক্তি যতই শক্তিশালী হোক, আমরা সবাই যদি তার বিরুদ্ধে আন্দোলন করি, নিশ্চয়ই এক দিন তাকে ভেঙে পড়তে হবে।

ভালোবাসার পক্ষে থাকুন, নিবিড়-এর সঙ্গে থাকুন

ছবি – মুকুট তপাদার

About author

Articles

আলোকচিত্রী এবং লেখক। বাংলার হেরিটেজ নিয়ে কাজ করতে ভালোবাসেন।
মুকুট তপাদার
Related posts
গৃহস্থালিফিচারমনন-অনুধাবন

ব্লেড আবিষ্কারের পেছনে রয়েছে বোতলের ছিপি

ব্লেড তৈরি করেছিলেন কিং ক্যাম্প জিলেট। ১৮৯০ সালে তিনি একটি বোতলের ছিপি বানানোর কোম্পানিতে সেলসম্যানের কাজ করতেন। তিনি লক্ষ্য করেন সবাই ব্যবহার করে ছিপি ফেলে দিচ্ছে অথচ এই সামান্য জিনিসটার ওপরেই পুরো কোম্পানি দাঁড়িয়ে আছে।…
Read more
ফিচারমনন-অনুধাবন

‘ব্লুটুথ’ কি আসলেই ‘নীল দাঁত’? নামের উৎস জানেন?

ব্লুটুথের কথা আমরা সবাই জানি। এ হল এক ধরনের ওয়্যারলেস টেকনোলজি যার মাধ্যমে ১০ থেকে ৫০০ মিটারের মধ্যে কোনওরকম ওয়্যার (তার) ছাড়া দুটো বা তার বেশি ডিভাইসের মধ্যে ডেটা ট্রান্সফার করা যায়। ১৯৯০ সালে নেদারল্যান্ডের…
Read more
ফিচারমনন-অনুধাবন

জলের ময়ূর থাকে গ্রাম বাংলায়, দেখেছেন কি?

ময়ূর পাখিটির সঙ্গে তো আমরা সবাই পরিচিত। পুরাণ মতে দেবতা কার্তিকের বাহন। আবার ভারতের ‘জাতীয় পাখি’র শিরোপা তার মাথায়। নীল রঙের গলা আর তার রঙিন লেজের বাহার। কিন্তু আজ, আমরা গল্প শুনব ‘জলময়ূর’-এর। ময়ূরের মত…
Read more

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *