কলকাতাখবরপর্দা ফাঁসরাজ্য

‘ভুয়ো’ জঙ্গি? হরিদেবপুরে ধৃতরা কি সত্যিই জেএমবি জঙ্গি, নাকি মিডিয়ার অপপ্রচার?

গত সপ্তাহেই দক্ষিণ কলকাতার হরিদেবপুর থেকে জেএমবি জঙ্গি সন্দেহে গ্রেফতার করা হয় ৩ জনকে। যা নিয়ে যথেষ্ট আলোচনার ঝড় ওঠে ওয়াকিবহাল মহলের। ধৃতদের নাম নাজিউর রহমান, সাবির ও রবিউল। শহরে তারা বড় কোনও নাশকতার ছক কষছিল বলেই অনুমান করে পুলিশ। জানানো হয়, ধৃত ৩ জনের মধ্যে প্রধান মাথা ছিলেন নাজিউর রহমান। পূলিশ সূত্রে জানা যায়, সে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত একজন জেএমবি জঙ্গি। অন্তত এমনটাই দাবি করে কলকাতা পুলিশের এসটিএফ।

তবে শুধুমাত্র নাজিউরই নন, এই ৩ জনের মধ্যে আরও একজন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জঙ্গি আছে বলে সন্দেহ প্রকাশ করে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে প্রচুর কাগজ ও নথিপত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানা যায়। আপাতত যে তথ্য পুলিশের কাছে উঠে আসছে, তাতে জানা যাচ্ছে যে বাংলাদেশের মাস্টার জিয়া গোষ্ঠীর অন্তর্ভূক্ত ধৃত এই ৩ জন। তবে সত্যিই কি এই মানুষগুলো সন্ত্রাসবাদী নাকি নিছকই পেটের টানে এদেশে এসে বসবাস করতে শুরু করা গরিব মানুষদের একটা অংশ! এই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে এখন থেকেই। কারণ, আগেও দেখা গিয়েছে অনেকসময়ই ভুল মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে এবং মূলধারার মিডিয়াও নিজেদের টিআরপির লোভে সেই নিয়ে ভুল খবর প্রচার করে গিয়েছে লাগাতার। তাই আজ আমরা চোখ রাখব এই ঘটনার পিছনে লুকিয়ে থাকা দিকগুলোয়।

পিপলস রিভিউ বাংলার সংবাদ প্রতিনিধি সৌম্য মণ্ডল ওই অঞ্চলে গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে সম্পূর্ণ নতুন কিছু তথ্য তুলে ধরেছেন আমাদের সামনে। সেখানকার পাড়ার লোক জানাচ্ছেন, তিনজনের মধ্যে সাবির সেই অঞ্চলে বহুদিন ধরেই থাকতেন, এবং বাকি দুজন নতুন এসে থাকা শুরু করেন। ধৃত সাবির ছোটখাটো ফেরির কাজ করতেন, তবে গতবারের লকডাউনের সময় কাজ চলে যাওয়ায় বেশ সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় তাকে। তবে বাকি দুজনের বিষয়ে তাঁরা কিছু বলতে পারেননি। আঞ্চলিক ক্লাবের সেক্রেটারির মতে, সেই অঞ্চলে বেশিরভাগ গরিব এবং খেটে খাওয়া মানুষের বাস, ফলে তাদের সম্বন্ধে এমন খবর প্রচার হওয়ায় অনেকেই তাদের সকলকেই খারাপ ভাবতে শুরু করেছেন। এমনকি সেই অঞ্চলের নিরীহ ফলওয়ালা, রিক্সাওয়ালাদের ওপরেও বিভিন্নভাবে অত্যাচার করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, ধৃতদের কাছ থেকে পাওয়া সাধারণ বাড়ির জিনিসপত্রকেই বন্দুক, বোমা বানানোর সরঞ্জাম বলে চালানো হচ্ছে বিভিন্ন মিডিয়ায়। এবং মিডিয়ার লাগাতার প্রচারের ফলে তাদের এলাকার সম্বন্ধেই একটা খারাপ ধারণা তৈরি হচ্ছে জনমানসে। কারণ, তাদের মতে ধৃতেরা জঙ্গি নয়, সাধারণ গরিব মানুষ। তবে যদি তারা বাংলাদেশ থেকে বেআইনি ভাবে এখানে এসে থাকেন তার বিরুদ্ধে তদন্ত হতে পারে, এবং দোষ প্রমাণিত হলে শাস্তিও দেওয়া উচিত। তবে এভাবে জঙ্গি বলে দাগিয়ে দেওয়া উচিত নয় একেবারেই সমস্ত প্রমাণ পাওয়ার আগেই। কারণ, এর ফলে এলাকার মানুষের ওপরেই সবথেকে বেশি খারাপ প্রভাব পড়ছে। তাই আমাদেরও উচিত এমন বিষয়ে খবর পড়ার, বোঝার আগে সমস্ত দিক ভালো ভাবে জেনে নিয়ে তবেই তা প্রচার করতে।

নিবিড় ডেস্ক

About author

Articles

সমাজ ও সংস্কৃতির বাংলা আন্তর্জাল পত্রিকা ‘নিবিড়’। বহুস্বর এবং জনগণের সক্রিয়তা আমাদের রাজনৈতিক অবস্থান।
নিবিড় ডেস্ক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *