উপন্যাসসাহিত্য

গুলঞ্চ গাছের নিচে, পর্ব – ১৩, দুপুরে পাপড়ি ফোটে

দূর-দূরান্তের একফালি বারান্দা। দুপুর দুটো কি আড়াইটে হবে হয়তো। ছুটির দিন। ফুরফুরে হাওয়া। হেমন্তের কাঁচামিঠে রোদ। তাতে মেলে রাখা স্নানের পরে আর্দ্র, আজানুলম্বিত কেশগুচ্ছ। একটা কবিতার বই। পাশে খোলা নোটবুক। পাতাগুলো উড়ছে অল্প। তারও পাশে একটা অ্যাশট্রে। নিভু নিভু ধোঁয়া। ভাতঘুমের আগে একটু আলসেমি। আর ওরা দু’জন। একান্তে। পাপড়ির কথা মনে পড়লে, ঠিক এরকমই একটা ছবি, নদীর বুকে দোদুল্যমান একটা ডিঙি নৌকার মতো বারবার যেন দুলতে থাকে, ওর মনে ভিতরে কোথাও।

এভাবেই প্রতিটা রাত দীর্ঘায়িত হয়। মনখারাপ হলে মানুষ নিভে যাওয়া একটা বিড়িকেও বারবার ধরাতে বাধ্য হয়। ঘুম না এলে, ঘুমের চেষ্টা করার চাইতে ছাদে বেড়াতে যাওয়াটাকে প্রেফার করে বেশি। দুটো হাত দু’দিকে প্রসারিত করে, শাহরুখ খানের মতো আকাশের দিকে মুখ তুলে তাকিয়ে থাকে অনেকক্ষণ। নাইট ক্রিমের মতো করে মুখে মেখে নেয় অমলিন চাঁদ।

আরও দূরে, ইলেকট্রিকের তারে ফেঁসে যাওয়া ঘুড়িটা মৃদু হাওয়ায় প্রাণ ফিরে পেয়ে, ফরফর শব্দ করে এদিক-ওদিক দুলছে। পাড়ার মোড়ের বাল্বটা একবার দপদপ করে জ্বলে উঠেই নিভে গেল। ফ্ল্যাটের ট্যাঙ্কটার উপর উড়ে এসে বসলো একটা লক্ষ্মীপ্যাঁচা। একটা বেড়াল নিচে রাস্তা পেরোচ্ছে। তারপর পাঁচিল। একটার পর একটা ফ্ল্যাট ডিঙিয়ে যাচ্ছে অনায়াসে। কয়েক সেকেন্ড পর তাকে আর দেখতে পেল না দ্বিপ্রহর। তার জোরালো ‘ম্যাও… ও…’ ডাকটা শুনতে পেলো শুধু।

আরও আরও দূরে, একটা ছাদে, একটা লোক দাঁড়িয়ে আছে আলসেতে ভর দিয়ে। তার মুখের উপর ডিম হওয়া একটা আলো। অলস আঙুলে ফেসবুকের নিউজ ফিড স্ক্রল করে চলেছে হয়তো। মাঝে মাঝে বাঁ-হাতটা ঠোঁটে তুলে দিচ্ছে সিগারেট। মমত্ব নিয়ে, মায়ের মতো। একটা, দুটো, তিনটে – এইভাবে চলছে। হিসেব থাকছে না কোনো।

আরো পড়ুন : গুলঞ্চ গাছের নিচে, পর্ব – ১১, ছবিঘর

ছোটোবেলার একটা কথা মনে পড়লে খুব হাসি পায় ওর। বাংলায় ‘সম্বন্ধ’ স্পেলিংটা গুবলেট করার জন্য, কত টিচারের কাছে কতবার যে বকা খেয়েছে ও, তার কোনো ইয়ত্তা নেই। ম-এর নিচে ব দিতে ভুল হতো বারবার। অথচ, শব্দটার অর্থ ওর কাছে ছিল জলের মতো স্বচ্ছ। বড়ো হবার সাথে সাথে বানানের ভুলটা শুধরে গিয়েছে ঠিকই। কিন্তু, সম্পর্কগুলো জট পাকিয়ে গিয়েছে বড়ো। কোনটা ঠিক, কোনটা বেঠিক, বুঝতে গেলে ইয়াব্বড়ো, বেঢপ সাইজের চার-পাঁচটা হজমি লাগে।

অনেকদিন পর আজ ছাদে উঠল ও। সিগারেট ধরাতে ধরাতে হঠাৎই মোড়ের মাথার হোর্ডিংটা নজরে পড়লো ওর। চারপাশ থেকে এসে পড়া হলুদ আলোয়, মডেলের চওড়া হাসিটাতেও কেমন যেন বিষণ্ণতার ছোঁয়া। পাশে বড়ো বড়ো হরফে লেখা, “ভেঙে ফেলুন সমস্ত বেরিয়ার, আমাদের কোর্সকে করুন হাতিয়ার, আর গড়ে তুলুন নিজের উজ্জ্বল কেরিয়ার।” তার নিচে চৌকো চৌকো খোপে কতকগুলো যুবক-যুবতীদের ছবি। কেউ এতে ফার্স্ট, কেউ ওতে।

নিজের পড়াশোনাটাকেও বিজ্ঞাপনটার কাছে নগণ্য বলে মনে হলো ওর। পদ্যের ছাঁচে, বিদ্রুপাত্মক এই লেখাটা যে লিখেছে, তাকে মনে মনে একটা স্যালুট ঠুকে দিল ও। দু’ছত্রে সে লিখে ফেলেছে একটা বেকারের রোজনামচা। একটার পর একটা ডিগ্রির লেজুড় নামের পাশে জুড়ে নিয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়ায় অজস্র মানুষ। হাতের ফাইলটা থেকে লম্বাচওড়া সার্টিফিকেট উঁকি দেয়। খিদে পেলে বুকে টেনে নেয় পঁয়তাল্লিশ টাকার চিকেন রোলের গন্ধ। গলা শুকিয়ে এলে তেষ্টাসঙ্গী কর্পোরেশনের জল। রাতে রুটির সঙ্গে সারাদিনে অর্জিত একচিমটে প্রত্যাখ্যান। লেখাটার পিছনের এই ইতিহাসটা কেউ বোঝে না। পাপড়ির ক্ষেত্রেও সেটাই স্বাভাবিক।

আসলে, উপরে ওঠার জন্য মানুষ নির্দিষ্ট একটা সিঁড়িকে বেছে নেয়। সেই সিঁড়ির প্রত্যেকটা ধাপে উঠে সে একবার করে পিছন ফিরে দেখে, আর, তার পরের পদক্ষেপটা ঠিক করে। কিন্তু, লক্ষ্যে পৌঁছানোর পর তার মনেও থাকে না সিঁড়ির সাহায্যের কথা। ভুলে যায়, পিছনে পড়ে থাকা অসংখ্য, অদৃশ্য পায়ের ছাপগুলোকে। এভাবেই কত মানুষ ভুলে গিয়েছে তার সিঁড়িগুলোকে!

কতকটা সেভাবেই, পাপড়িরও লক্ষ্য ছিল অনেক উঁচুতে ওঠার। তাই ওকে মাড়িয়ে জিয়াঙ্ককে ফিরে পেতে চেয়েছে সে। আর সিঁড়ির ভূমিকায় ও দুর্দান্ত অভিনয় করে ফাটিয়ে দিয়েছে। ওর ফিল্মরত্ন পাওয়া এখন আটকায় কে?

অথচ, এই পাপড়িই একসময় একসময় ওকে কত উৎসাহ জুগিয়ে গিয়েছে! জুলাইয়ে প্রকাশিত ওর প্রথম কবিতার বইয়ের উৎসর্গপত্রেও নাম রয়েছে তার। কবিতাশ্রয়ী নারীটিও সেইই। এই পাপড়ির জন্যই আজকাল কবিজগতে একটু-আধটু নাম হয়েছে ওর। মাঝেমধ্যেই কবিতাপাঠের অনুরোধে ডাক আসে ইদানীং। পরবর্তী সংখ্যার জন্য লেখাও দাবি করে বসে কেউ কেউ।

কবিজগত। অস্ফুটে শব্দটা আরেকবার উচ্চারণ করে, মৃদু হেসে নিল ও। কবিদের সত্যিই একটা সমান্তরাল দুনিয়া থাকে। বাস্তবের সাথে তার কোনো মিল নেই। যেখানে কল্পনার চাদর ঢাকা দিয়ে আনন্দের কোটরে বিষাদ লুকিয়ে থাকে। কিন্তু, ওর কবিতায় হর্ষের চাইতে বিষাদের হর্সপাওয়ার বেশি। অশ্বডিম্বের মধ্যে অশ্ব সন্ধান করাটাও একরকম বৃথাই। আসলে, লেখক ও ছিলই না কোনোদিন। নিজেকে অন্যভাবে গড়তে গিয়ে, ছেনি হাতুড়ির আঘাতে ও নিজেকেই ভেঙেচুরে, কদর্য করে ফেলল না কি?

অবশ্য কিছু একটা গড়তে যতটা সময় লাগে, ভাঙতে ততটা লাগে না। সৃষ্টি আর ধ্বংসের মধ্যে এটাই তফাৎ। একেবারে প্রথম দিকে ওদের সম্পর্কটা ছিল স্ট্রিং ফোনের মতো। থার্মোকলের কাপ দুটোর মধ্যবর্তী তারটায় ছিল প্রচণ্ড টান। ছুঁয়ে দিলেই ‘টুং’ শব্দে আন্দোলিত হতো দুটো মন। আর আজ, কাপদুটো ক্রমশ দূরবর্তী হতেই, সেই তারটাই কেটে গেছে। বেতালা হয়ে যাওয়ার ভয়ে তারটাও হয়তো নিজেকে জোড়া লাগাতে চায়নি আর। কাপদুটোও বিচ্ছিন্ন হয়ে, ছিটকে গিয়েছে একে অপরের বিপরীতে। সেভাবেই, চারতলার ব্যালকনিতে আর, বাদামি আলোর ছটা মুখে নিয়ে, রাস্তায় অপেক্ষমান দুটো মানুষের মধ্যে অনায়াসে ঢুকে পড়েছে বেশ কয়েকটা আলোকবর্ষ।

বাদামি রং, বিশ্বাসের রং। ওর প্রিয় রংও বাদামি। আর পাপড়ির পছন্দের রং নীল। বাদলা দিনে খিচুড়ি, আর, ভালোবাসায় বিশ্বাস – পাশাপাশি থাকলে জমে ভালো। কিন্তু, ব্রেক আপ আর সিগারেটের মতো, সব কম্বিনেশন বোধহয় জম্পেশ হয় না। বাদামি আর নীলের মিশেলে কালো হয়ে যায় ক্যানভাস। সব রং হারিয়ে যায় আস্তে আস্তে।

তখন ওর ইলেভেন কি টুয়েলভ। টিকটিকির বহিরাকৃতি আঁকতে গিয়ে একটা বিচিত্র জীবের জন্ম দিয়েছিল ও বায়োলজি প্র্যাকটিক্যাল খাতায়। গিরগিটির ভাইপো, কিন্তু, ড্রাগন যেন তার কাকু – কিছুটা সেই গোছের ছিল জীবটা। এরকম বিশ্বকর্মা-মার্কা হাত নিয়ে দু’বছর আগেই এঁকেছিল পাপড়ির একটা ছবি। খুব একটা খারাপ হয়নি সেটা। সেই ছবিও আজ প্রায় দেড়বছর হল ফ্যাকাশে হয়ে গেছে। মিশে গেছে হোয়াটসঅ্যাপ স্টোরেজের কোনো এক কোণায়। পাপড়ি নামটাও ধীরে ধীরে নামতে নামতে ঠেকেছে অ্যাপের একদম তলানিতে। ক্যালেন্ডার ঘুরে ফিরে বার্থডের নোটিফিকেশনও এসেছে দু’বার। উইশ করব ভেবেও করা হয় ওঠেনি। মেসেজ টাইপ করেও আঙুল সেন্ডের বদলে ব্যাকস্পেস চেপে ধরেছে। মনখারাপ হয়েছে হয়তো। কিন্তু, সামলেও নিতে হয়েছে।

মন। ব্যাটার হদিশ কেউ কোনোদিন পেল না। তার ঠিকানা মাথায়, নাকি, লিভারের পাশে, সেটাও জানল না কেউ কোনোদিন। অথচ, সেইই মানুষের সবচেয়ে বড়ো শত্রু। সেদিন পাপড়ির কান্নাটা ও মন দিয়ে বিচার না করে, যদি মাথা দিয়ে ভাবত, তাহলে ওকে এতটা কষ্ট পেতে হত কি?

সেদিন পাপড়ির জন্মদিনও ছিল। সন্ধের সময় উইশ করবে ভেবে ও ফোন করেছিল। খুব কাঁদছিল মেয়েটা। একথা সেকথায় স্বাভাবিক করেছিল তাকে। রাত্রে ছবিটা এঁকে পাঠিয়েছিল। ছবিতে পাপড়ির হাস্যময়ী মুখের উপর গোলাপের পাপড়ি ঝরে পড়ছিল। নিচে, হেভিওয়েট একটা ক্যাপশনও দিয়েছিল কবিতার ছাঁদে।

কিন্তু, দুপুরেরা বোধহয় কাঠখোট্টাই হয়। কয়েকটা দিন সহ্য করে নিয়ে, কোমল পাপড়িদের সেখানে ঝরে পড়াটাই রীতি। কিংবা কান্নাটাকে ও মিসইন্টারপ্রেট করেছিল। কান্নাটা হয়তো জিয়াঙ্ককে হারানোর কান্না ছিল। তাহলে আরও অনেক কিছু মিথ্যে হয়ে যায়। প্রথমবারের হাতের স্পর্শ, প্রথমবারের জন্য দুটো ঠোঁটের আলিঙ্গন, রাস্তা থেকে গুলঞ্চ ফুল কুড়িয়ে নিয়ে, তাতে নিজের ঠোঁট ছুঁইয়ে, তার খোঁপায় গুঁজে দেওয়া – সঅঅঅব। আর সেইসব সুখস্মৃতির সমাধিতে জোড়ায় জোড়ায় ফুল ফোটে।

বাবা শ্রী শ্রী জনমত ভগবৎ তিমিরানন্দ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “দূরে গিয়ে যদি কেউ ভালো থাকে, তার ভালো থাকায় নিজের ভালো থাকা খুঁজে নাও।” ঠিক সেইভাবেই, ও নিজেকে মানিয়ে নিয়েছে সবকিছুর সঙ্গে। মা বাবার শোনানো কথাগুলোর সঙ্গে। পাপড়ির থেকে দূরত্বকে। কাউকে দোষারোপ করে না আর। ঝিম্পাই নামের ওই মেয়েটাকেও না।

সিগারেটের ধোঁয়াটা হঠাৎ দৃশ্যপটে পরিবর্তন আনল যেন। নিজেকে পুজোমণ্ডপের মঞ্চে বসে থাকতে দেখল ও। ক্রমশ পাতলা হতে থাকা ভিড়ের মধ্যে ওর চোখদুটো কাউকে একটা খুঁজে চলেছে। বুকের মধ্যে একটা অস্বস্তি। আর, একটা হিমশীতল হাওয়া এসে ওর সারা শরীরের লোমগুলোকে জাগিয়ে দিয়ে যাচ্ছে। এই হাওয়া কানের দুল দুলিয়ে দিতে জানে না। এই হাওয়ায়, ভয়ে, স্কার্ফ দিয়ে কান ঢেকে নেয় পাপড়িরা। এই হাওয়া পাতাঝরার। সবকিছু কেড়ে নিতে পারে শুধু।

পাতলা হিমের চাদরটা ভেদ করে, বাঁশিতে বিচ্ছেদের সুর বাজাতে বাজাতে, রাস্তা দিয়ে পেরিয়ে যাচ্ছে একটা অন্যমনস্ক বাঁশিওয়ালা। আস্তে আস্তে শীত নেমে আসছে ছোট্ট মফসসলের বুকে। সারা শহরটা নিশ্চিন্তে ঘুমোচ্ছে লেপমুড়ি দিয়ে। এভাবেই, মনখারাপের লেপের তলায় ভালো থেকে জীবন কাটিয়ে দেবে সবাই।

আরো পড়ুন : গুলঞ্চ গাছের নিচে, পর্ব – ১২, হোঁচট

অথচ, দুই আঙুলে চেপে ধরা সিগারেটটা যেন আগুন পৌঁছে দিচ্ছে ওর বুকের ভিতরে কোথাও। অনেক কষ্টে চেপে রাখা কান্নাটা চুঁইয়ে চুঁইয়ে পড়ছে আগুনটার ওপর। মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসছে সেই নিভু আগুনের ধোঁয়া। চোখে পেঁয়াজের ঝাঁঝ, বা, বাহ্যিক কোনো উদ্দীপনার প্রভাব ছাড়া, ছেলেদের না-কাঁদাটাই যে রীতি!

দূরে কোথাও একসাথে অনেকগুলো কুকুর ডেকে উঠল তারস্বরে। খানিকটা উপহাসের মতোই ঠেকল না ডাকটা? সারাদিনের বিক্রিবাটার পর অবশিষ্ট, নানারঙের ফিতেগুলোকে বুকে জড়িয়ে নিয়ে, মোড়ের ফ্ল্যাটের আড়ালে হারিয়ে গেল ফিতেওয়ালাটা।

মাথার ওপর দিয়ে একটা এরোপ্লেন চলে গেল। মনে মনে আন্দাজ করে নিল ও। কয়েকদিন পর এরকমই একটা প্লেন, প্রথমে উড়ে যাবে বস্টন। তারপর শিকাগো, ক্যালিফোর্নিয়া, লাস ভেগাস এবং ওর অজানা, বিচিত্র নামের কিছু সব-পেয়েছির-বন্দর ঘুরে, ফিরে আসবে কলকাতায়। তখন, উইন্ডো সিটে বসে, ওকে আর খুঁজবে না কোনও পরিচিত মুখ। আদুরে ডাকনাম দিয়ে ওকে কেউ, কোনোদিনও ডাকবে না আর। হয়তো, গুলঞ্চ ফুল দিয়ে পাপড়ির খোঁপা আর সাজিয়ে তোলা হয়ে উঠবে না কখনো।

এভাবেই অনেককিছু বাকি থেকে যাবে। কবিতার লাইন অসমাপ্ত হয়ে পড়ে থাকবে ডায়েরিতে। কারণ ছাড়াই অনেক মন ভেঙে যাবে। অবিরত অকালবৃষ্টিতে ভেঙে যাবে শক্ত কাঁধের মতো পাঁচিল। আর, জেট প্লেনের মতো অশরীরী প্রেমিক হয়ে ও তখন ভেসে বেড়াবে অনেক উচ্চতায়। পিছনে রেখে যাবে ক্ষণিকের ধোঁয়ার মতো, সাময়িক কিছু ক্ষতের দাগ। সেই দাগ মুছতে মুছতে স্পঞ্জের মতো ফুসফুসও নেতিয়ে পড়বে আস্তে আস্তে। পৃথিবীর খাতায়, সেসময়, আর কোনো মনখারাপের আঁচড় থাকবে না।

(চলবে)

ভালোবাসার পক্ষে থাকুন, নিবিড়-এর সঙ্গে থাকুন

Photo by Văn Thắng: https://www.pexels.com/photo/man-and-woman-near-grass-field-1415131/

About author

Articles

ল্যাদখোর এবং বিরিয়ানিখোর কলমবাজ (কলম্বাস নয়)। উত্তরপাড়া অমরেন্দ্র বিদ্যাপীঠ (বালক) আর রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় না থাকলে পড়াশোনা শিকেয় উঠত।
অভিষেক চন্দ্র
Related posts
খবরদেশবিদেশ

অক্সফোর্ড অভিধানে স্থান পেল ৮০০ ভারতীয় শব্দ, তালিকায় রয়েছে ‘দেশ’, ‘বিন্দাস’

অক্সফোর্ড অভিধানে জায়গা করে নিল মোট ৮০০টি ভারতীয় শব্দ। সেই তালিকায় রয়েছে ‘দেশ’, ‘বিন্দাস’, ‘দিয়া’র মতো বহু ভারতীয় শব্দ। ব্রিটিশ অভিধানের তরফে জানানো হয়েছে, ইংল্যান্ড ও আমেরিকার পর ভারতীয় ইংরাজিকেই গুরুত্ব দেওয়া হয় তাদের তরফে।…
Read more
গদ্যলিপিসাহিত্য

বিদ্যার দেবী কী করে প্রেমের দেবী হয়ে উঠলেন জানতে পারল না অনেকেই

সরস্বতী পুজো। কচিকাঁচাদের হাতেখড়ি থেকে শাড়ি-পাঞ্জাবি পরে স্কুল ভ্রমণ। উপোশ করে অঞ্জলি না দিলে মা বুঝি অঙ্কে এবার পাশ করাবেন না। এদিকে খিদের মুখে চোখের সামনে কুল, মিষ্টি, কলা, লুচি, সুজি। কী কষ্টকর! কিন্তু তাও…
Read more
ফিচারবিদেশমনন-অনুধাবন

উদ্ধারকারীদের জড়িয়ে ধরে কৃতজ্ঞতা জানায় প্রতিদিন

বহুদিন পর সন্তান বাড়ি ফিরলে মা তাকে জড়িয়ে ধরেন। কিংবা হাজার কথা কাটাকাটির পর যখন সব ভুল বোঝাবুঝি মিটে যায়, ভালোবাসার মানুষটিকে কাছে টেনে জড়িয়ে ধরেন অপরজন। আজ তাই পরিচয় করাব এক অন্য ধরনের আলিঙ্গনের…
Read more

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ফিচারমনন-অনুধাবনরাজ্য

ভারতীয় যোগব্যায়ামকে বিশ্বের দরবারে নিয়ে গিয়েছিলেন বিষ্ণুচরণ ঘোষ

Worth reading...