নাগেরবাজার

 সোমনাথ রায় 




নবাব সেদিন হাওদা থেকে নেমে

এইখানে ঠিক দাঁড়িয়েছিলেন, আজ

উড়ালপুলের নিচে বাসের বাঁকে

সিগনালে তার বিচিত্র এই সাজ-


উড়ছে ধুলো ট্যাক্সি অটোর ফাঁকে

ফুটপাথে তার পণ্য নানান দামের

তার কোণে ঐ মসজিদ, ঠিক সেটাই-

নবাব সিরাজ নামাজ পড়তে নামেন


মিশিয়ে ধুলোয় ফিরিঙ্গি কেল্লাটাই

প্রথম যুদ্ধ জয়ের পরে বাড়ি-

তরুণ শাসক ভাবল কি একবারও

ইতিহাসের ওজন কত ভারী!


গুলিয়েছিল দেশকাল কি তারও?

নইলে দু’পা দূরেই ক্লাইভ কুঠি

দমদমার ঐ প্যালেসখানি পাশে

যুবক সেদিন ভাবল এখন ছুটি?


ঐখানেই তো মাটির নিচে ভাসে

গঙ্গাহৃদির প্রত্ন কোলাহল

গোরক্ষনাথ নৌকো নিয়ে তার-ই

ঘুরতে বেড়ান সমস্ত অঞ্চল


যুদ্ধ শেষে নবাব ফেরেন বাড়ি

আসন্ন তার ভবিষ্য নির্ঘোষ

ঘরেই তো তার উইয়ের বাসা রাখা

শত্রু সাজায় অন্ধকূপের দোষ


শত্রু কে? সে ব্রিটিশ? নাকি ঘরেই?

তার নামই তো অগ্রগতির চাকা?

নবাব কি আর জানবে ভবিষ্যতের

সব পতাকায় শত্রুরই নাম রাখা!


সিরাজ তোমার সামনে দেখ ফের

ব্রিটিশ এবং বিভীষণের পাশে

তত্ত্বে তত্ত্বে ভরা বইয়ের থাকে

অক্ষৌহিণী শত্রুসেনা আসে


হায়বৎ জং নিকেশ করুন তাকে

মুক্ত করুন এই নদী এই ক্ষেত

গোরক্ষনাথ সহায় হবেন তবে

সহায় হবে গঙ্গাহৃদির প্রেত


এই পথেই তো মন্বন্তর হবে

পালটে দিন ঐ ইতিহাসের গতি

দেখুন আপনি সৈন্য সংগঠিত

বাঁচাতে চাইছে সন্তান্ত সন্ততি


নবাব, জানেন, এখন যারা মৃত

এবং যারা এখনও পায়নি প্রাণ

বাঁচার লড়াই এটাই এখন ওদের

মুছিয়ে দিন ঐ পলাশীর ময়দান


ফজর নামাজ শেষ হয়েছে, রোদে

ক্রমে ক্রমে সব তারাই যে লুকাল

অন্য কোনও অতীত সময় থেকে

ভবিষ্যতে পাঠাচ্ছে তারা আলো


তেমনি নবাব তোমার সময় থেকে

ঠিকরে এসো, লড়াই পুনর্বার

বর্গিজয়ী সৈন্য ছুটুক বেগে

বাঁচাক তারা গাছ পাখি সম্ভার


ফেরাও হাতি নাগেরবাজার থেকেই

সর্বগ্রাসের সভ্যতা চুরমার

মন্বন্তর বিশ্বযুদ্ধ সবই

মুছে যাক, থাক মানুষের সংসার।


ছবি – সোহম দেব 

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.