রাধার যৌবন লুঠ করেছিলেন কৃষ্ণ, ধর্মীয় মৌলবাদীরা কি তা জানেন?




কৃষ্ণ কি শুধুই উপাস্য ভগবান? যিনি ভব সাগর পার করিয়ে আমাদের নিয়ে যান চির-মোক্ষের রাজ্যে ? কিংবা মহাভারতের ভারত যুদ্ধের পার্থসারথি রূপে অবতীর্ণ অসামান্য কূটনীতিক রাজনীতিক? যদি তিনি শুধু তাইই হতেন তাহলে তো তাঁকে নিয়ে শতাব্দীর পর শতাব্দী জুড়ে এত সপ্রেম ভক্তি সাহিত্য রচিত হতে পারত? না পারত না। উপনিষদ থেকে পৌরাণিক সাহিত্য এবং সর্বোপরি মহাভারতে কৃষ্ণ চরিত্রটি নানা মাত্রায় অভিব্যক্ত হয়েছে। তা নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা এই রচনার উদ্দেশ্য নয়। কৃষ্ণের মত এত বর্ণময়, চিত্তাকর্ষক, বিবর্তিত ও বিতর্কিত চরিত্র সমগ্র ভারত সাহিত্যে আর দু’টি নেই! কৃষ্ণকে যে যেভাবেই গণ্য করুন না কেন তিনি যে অদ্বিতীয় শাশ্বত প্রেমিক পুরুষ এই নিয়ে সকলেই নিঃসন্দিগ্ধ।

ভক্তি সাহিত্যে মুখ্যত বৈষ্ণব সাহিত্যে ভক্ত ও ভগবানের সম্বন্ধ (আরাধিকা ও আরাধ্য) মানবিক আর এই মানবিকতার মূল আধারটি হল প্রেম। কোনো আতঙ্ক বা ভয়ের স্থান এখানে নেই। যাঁরা বৈষ্ণব সাহিত্য সম্বন্ধে খুব সামান্য অবগত আছেন তাঁরা জানেন যে কৃষ্ণের প্রতি ভক্তি মনের রতি পাঁচ ভাগে বিভক্ত - শান্তরস, দাস্যরস, সখ্যরস , বাৎসল্যরস ও মধুররস (যা শৃঙ্গার ও উজ্জ্বল রস নামেও পরিচিত)। বলা বাহুল্য যে এই পঞ্চবিধ রসের মধ্যে শেষোক্ত মধুর রসই লোকমানসে সর্বাধিক প্রিয়। এবং কবিরাও শৃঙ্গার বা মধুররসকে অবলম্বন করে কম গীতিকাব্য সৃজন করেননি। এই বঙ্গদেশেই দ্বাদশ শতকের জয়দেব থেকে বিদ্যাপতি বা ঊনবিংশ শতকের  রবীন্দ্রনাথ এর মাঝে আরও কত কবি এসেছেন - এক সমৃদ্ধ মধুর রসে সিক্ত গীতিকাব্যের ঐতিহ্য আমারা বহন করে চলেছি। মধুর রসে ভগবান হলেন কান্ত ও ভক্ত কান্তা।শান্তরসে কৃষ্ণ নিষ্ঠা, দাস্যের সেবা , সখ্যের বিভ্রম, বাৎসল্যের লালন ও মধুর রসের কান্তাভাব এই পাঁচটির আতিশয্যময় মিলনেই মধুররস পরিব্যক্ত হয়। অর্থাৎ ভগবানের প্রতি অহৈতুকী ভালোবাসার সর্বোত্তম প্রকাশ ঘটে একমাত্র মধুর রসেই।এই রতির তিনটি প্রকার যথা - সাধারণী (কৃষ্ণের রূপ লাবণ্য দর্শনে মোহিত হয়ে ইন্দ্রিয় বৃত্তি চরিতার্থ করার বাসনা যেমন - কুব্জা), সমঞ্জসা (কৃষ্ণের গুণাদি শ্রবণে শাস্ত্র সম্মত পরিণয়ে বদ্ধ দ্বারা পারস্পরিক সঙ্গসুখ লাভ যেমন - রুক্মিণী, সত্যভামা প্রমুখ) এবং সমর্থা (ভক্ত হৃদয়ে যে কৃষ্ণ রতি স্বতঃসিদ্ধ, ভগবানের তৃপ্তি সাধনই যার একমাত্র লক্ষ্য, যার কাছে সমাজ সংসার মিথ্যা হয়ে ভগবানেই অঙ্গীভূত হয় সেটাই সমর্থা রতি যেমন - বৃন্দাবনের ললিতা, বিশাখা, চন্দ্রাবলী , শ্রীরাধা)। মনে রাখা দরকার যে চন্দ্রাবলী গোবর্ধন ও রাধা আয়ানের পরিণীতা হয়েও কৃষ্ণের প্রতি আসক্ত। এরা কৃষ্ণের পরকীয়া নায়িকা।  এই সমর্থা রতিতেই নিহিত পরকীয়ার বীজ। যাকে ‘সান্দ্রতমা’(নিবিড়তমা) বলা হয়েছে।যা  স্বকীয়া রতিতে সম্ভব নয়। মধুর/ উজ্জ্বল রস ভেদের দু’টি দিক যথা - বিপ্রলম্ভ (যার চারটি দিক যথা-  পূর্বরাগ,মান, প্রেমবৈচিত্ত্য ও প্রবাস এবং আটটি অবস্থা যথা - অভিসারিকা, বাসরসজ্জা, উৎকন্ঠিতা, বিপ্রলব্ধা, খণ্ডিতা, কলহান্তিতা, প্রোষিতভর্ত্তৃকা ও স্বাধীনভর্ত্তৃকা।) এবং সম্ভোগ। এই কাঠামোর ওপরেই গোটা বৈষ্ণব পদাবলী সাহিত্য দাঁড়িয়ে আছে। কাজেই রতি সুখ, পরকীয়া প্রেম, কৃষ্ণের বহুবল্লভ চরিত্র, অন্যাসক্তি (ভাগবত পুরাণেই কৃষ্ণের লীলার ও বহু বিবাহের উল্লেখ আছে) নিয়েই ভক্তিসাহিত্য। প্রসঙ্গত আর একটি অকর্ষিত বিষয়ের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। এই বঙ্গদেশে রচিত ব্রহ্মবৈবর্ত্ত পুরাণের প্রকৃতি খণ্ডের ৪৯তম অধ্যায়ের ৪২তম শ্লোকে বলা আছে, বৃন্দাবনে রাধা ও কৃষ্ণের বিবাহ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। রাধাকৃষ্ণের পরকীয়া সম্বন্ধের সমান্তরাল একটি স্বকীয়া সম্বন্ধ ছিল। অতএব কৃষ্ণ যে প্রকৃতই বহুবল্লভ তা নিয়ে তো কোন সন্দেহ নেই। এইসব তো বৈষ্ণব সাহিত্যেই স্বীকৃতি পেয়েছে।এটা তো আজকের কোন বানানো বিষয় নয়! মানব মানবীর এই প্রেমকেই, শাশ্বত হৃদয়ানুভূতি, প্রেম ও বিরহের এই সূক্ষ্ম টানাপোড়েনকেই তো বৈষ্ণব কবিরা প্রমূর্ত করেছেন রাধা ও কৃষ্ণের মধ্যে দিয়ে কবিতায় গানে বা পদাবলীতে। আজকের হিন্দুত্ববাদীরা এ প্রসঙ্গে কী বলবেন?

আমার আলোচনাকে গুটিয়ে আনার আগে এই বঙ্গদেশে বড়ু চণ্ডীদাস বিরচিত 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য’র প্রসঙ্গ উত্থাপন করব। কী পাচ্ছি আমরা সেখানে? চতুর্দশ শতক নাগাদ রচিত ত্রয়োদশ খণ্ড বিশিষ্ট এই কাব্যে রাধা ও কৃষ্ণের সম্পর্কের এক লোকায়ত রূপ আমরা পাই। গৌড়ীয় বৈষ্ণব বা পদাবলী সাহিত্যের মধ্যে যে রুচি, পরিশীলিত সূক্ষ্মতা, আভিজাত্য ও ভক্তিভাব পরিস্ফুট হয়েছে তার সঙ্গে মেলে না। যদিও এইসবই ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তনে’র উত্তরকালের। এই কাব্যের ‘নৌকাখণ্ড’তে পাচ্ছি যে রাধাকে নিয়ে বড়ায়ি অন্যপথে মথুরা নিয়ে গেলেও কৃষ্ণ মাঝি সেজে যমুনার ঘাটে অপেক্ষা করছেন। ছদ্মবেশী কৃষ্ণকে চিনতে না পেরে রাধা নৌকায় উঠে বসেন এবং মাঝনদীতে কৃষ্ণ রাধার যৌবন লুঠ করেন। দেহচেতনার হাত ধরেই রাধার মনে কৃষ্ণের প্রতি আকর্ষণ তৈরি হতে থাকে। ‘বৃন্দাবনখণ্ডে’ কৃষ্ণ রাধার সঙ্গে মিলনের জন্য বৃন্দাবনে মনোরম পুষ্পকুঞ্জ রচনা করেন। কৃষ্ণ অন্যান্য গোপিনীদের সঙ্গে মিলিত হলে রাধা মানিনী হন। ‘কালীয়াদমন খণ্ড’ ও ‘যমুনা খণ্ড’তে রাধা, কৃষ্ণ ও অন্যান্য গোপীদের জলকেলি বর্ণিত হয়েছে। কৃষ্ণ দ্বারা গোপিনীদের বস্ত্র লুকিয়ে রাখার বর্ণনা এখানেই আছে। ‘বাণখন্ডে’ কৃষ্ণ রাধার প্রতি রুষ্ট হয়ে তাঁকে মদনবাণে আহত করেন। অবশেষে উভয়ের মিলন হয়। ‘বংশীখণ্ডে’ কৃষ্ণ রাধাকে আকৃষ্ট করার জন্য বাঁশি বাজাতে থাকেন। এতে রাধা এতটাই বিমোহিত ও আকুল হলেন যে তাঁর গৃহকাজ সব বিপর্যস্ত হল। সংসার ও প্রেমের সামঞ্জস্য রক্ষা করা গেল না। তখন রাধা কৃষ্ণের বাঁশি চুরি করেন। পরে কৃষ্ণের ঐকান্তিক প্রার্থনায় তা ফেরত দিয়ে দেন। কিন্তু রাধার সঙ্গে মিলনে আগ্রহ ব্যক্ত করেন না। শেষ খণ্ড ‘রাধাবিরহে’ রাধা কানুর জন্য অত্যন্ত ব্যাকুল হয়ে ওঠেন। কৃষ্ণ রাধাকে প্রত্যাখ্যানের কথা স্মরণ করিয়ে তিরস্কার করতে থাকেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বড়ায়ির অনুরোধ, রাধার অনুনয় ও ক্ষমা প্রার্থনায় কৃষ্ণ ও রাধা মিলিত হন। এককথায় বলতে গেলে পৌরাণিক আধারেই মর্ত্যকামনায় সংরক্ত, ধূলিধুসরিত জীবনের উষ্ণতাবহ কাব্য ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’। চৈতন্যদেবের আবির্ভাবের পূর্বের বঙ্গদেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ছবি এই কাব্য থেকে পাই। লক্ষনীয় যে 'বংশীখণ্ড’ ও ‘রাধাবিরহে’ কিছুটা বৈষ্ণব শাস্ত্র অনুসারী ভক্তিরসাশ্রিত আধ্যাত্মিক আবহ তৈরি হলেও এটি লৌকিক জীবন রসেই পুষ্ট হয়েছে। কৃষ্ণ এখানে পরমপুরুষ ভগবান ও রাধা এখানে মহাভাবস্বরূপিণী নন – তাঁরা রক্তমাংসের মানুষী সত্তাতেই জীবন্ত হয়ে ওঠেছে। পৌরাণিক কাঠামোর বাইরে গিয়ে গ্রাম বাংলার লোকায়ত ঐতিহ্যই এখানে প্রধান হয়ে উঠেছে। দেবনির্ভর সাহিত্য থেকে বেরিয়ে মানবমুখী সাহিত্য সৃষ্টির একটা প্রাথমিক প্রচেষ্টাই কি এই কাব্যে বিধৃত হয়নি? আজকের তথাকথিত হিন্দুত্ববাদীরা এই প্রসঙ্গে কী বলবেন? তাঁরা কি এই কাব্যটি নিষিদ্ধ করে দেবেন?

আসলে ‘কাম’ ও ‘প্রেম’কে কখনই ভারতীয় সাহিত্যের ভিন্ন করে দেখা হয়নি। যদি হত তা হলে চার পুরুষার্থের মধ্যে কামকে স্বীকৃতি দেওয়া হত না। কাম মানে তা অতি কদর্য ও প্রেম মানেই তা দেহাতীত তুরীয় বিষয় এই দ্বিকোটিক বিপ্রতীপ বিভাজনটি ভারতীয় সাহিত্য মানে না (মূলত চৈতন্যোত্তর গৌড়ীয় বৈষ্ণবরা এই বিভাজনটিকে বিশেষ মান্যতা দেন যদিও বিদ্যাপতির মধ্যে তা পাওয়া যায় না)। এবং সঙ্গত ও যৌক্তিক কারণেই তা মানে না। ভারতীয় অলঙ্কার শাস্ত্রে যে নবরসের ধারণা দেওয়া হয়েছে সেখানে শৃঙ্গার রসের স্থায়ীভাব (অর্থাৎ যা মানুষের মধ্যে সংস্কার রূপে বিদ্যমান,কখন পৃথক করা যায় না) হিসাবে রতিকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। যাঁরা আজ হিন্দু ধর্মের নামে তাণ্ডব করছেন তাঁদের কি আমাদের সনাতন সাহিত্য সম্বন্ধে এই সাধারণ ধারণাগুলো আছে? প্রাচীন আলঙ্কারিক, কবি, শিল্পী, সাহিত্যিকদের যুক্তি-বুদ্ধি ও কল্পনাশক্তির থেকে এই ধর্মীয় মৌলবাদীরা কয়েক আলোকবর্ষ দূরে অবস্থান করেন।



বস্তুত দেবদেবীদের সঙ্গে আমাদের সম্বন্ধটা যত না ভক্তির তার চেয়ে অনেক বেশি ভালোবাসার। আর যেখানে ভালোবাসা থাকে সেখানে মান, অভিমান, অনুযোগ, ক্রোধ, রগড় এমনকি খিস্তি খেউড় কোনটাই বাদ যায় না। কারণ মানুষই তো দেবতাকে নির্মাণ করেন। মৃন্ময় সত্তাকে তো মানুষই তাঁর শ্রদ্ধামিশ্রিত আবেগ ভালোবাসায় চিন্ময় করে তোলে। শাস্ত্র, উপচার তো কখন মানুষের মনকে বাঁধতে পারে না। কত ভক্তিবাদী মরমীয়া সাধকদের রচনায় তো শাস্ত্রাচার নয় বিঘোষিত হয়েছে সমর্পণ ও প্রেমের বাণী, বাংলার বৈষ্ণব পদাবলী, মঙ্গলকাব্য, হরগৌরী ছড়া, রাধাকৃষ্ণের ছড়া, অজস্র লোককথা, ব্রতকথা থেকে শুরু করে আধুনিক সাহিত্যে কি দেবতার মানবায়ন ঘটেনি? দেবদেবীদের সম্বন্ধে চালু রসিকথারগুলোর মধ্যে দিয়ে মোটেই দেবদেবীদের উদ্দেশে অশ্রদ্ধা বা অসন্তোষ ব্যক্ত হয় না। বরং আমরা যে কতটা তাঁদের ঐকান্তিক করে নিয়েছি, জীবনের অন্তরঙ্গ বৃত্তে স্থান দিয়েছি সেটাকেই সবচেয়ে বেশি প্রমাণ করে। দেবতাকে আমরা নির্মাণ ও বিনির্মাণ করেছি আমাদের মত করে। রবীন্দ্রনাথ তাঁর ‘লোকসাহিত্য’ প্রবন্ধে কী চমৎকার লিখেছেন – 

“বাংলার কবিহৃদয় এই দারিদ্রকে মহত্ত্বে এবং দেবত্বে মহোচ্চ করিয়া তুলিয়াছে। বৈরাগ্য এবং আত্মবিস্মৃতির দ্বারা দারিদ্র্যের হীনতা ঘুচাইয়া কবি তাহাকে ঐশ্বর্যের অপেক্ষা অনেক বড়ো করিয়া দেখাইয়াছেন। ভোলানাথ দারিদ্র্যকে অঙ্গের ভূষণ করিয়াছিলেন - দরিদ্র সমাজের পক্ষে এমন আনন্দয়ময় আদর্শ আর কিছুই নাই।‘আমার সম্বল নাই’ যে বলে সেই গরিব।‘আমার আবশ্যক নাই’ যে বলিতে পারে তাহার অভাব কিসের ? শিব তো তাহারই আদর্শ”।

হিন্দুত্ববাদীরা কি এইসব বোঝেন ?

রবীন্দ্রনাথ তাঁর ‘মানুষের ধর্ম’ প্রবন্ধের পরিশিষ্ট ‘মানবসত্য’ শীর্ষক নিবন্ধে লিখছেন যে - মানুষ মুখ্যত ত্রিজ।এর মধ্যে দিয়েই মানুষ জীবসত্তা থেকে মানবসত্তায় উন্নীত হয়। তাঁর প্রথম জন্ম ভূ-লোকে বা পৃথিবীতে, দ্বিতীয় জন্ম তার স্মৃতিলোকে তথা নিখিল ইতিহাসে এবং তৃতীয় জন্ম আত্মিক লোকে অর্থাৎ সর্ব মানবচিত্তের মহাদেশে।এই স্মৃতিলোকই হল আসলে সমষ্টিগত নির্জ্ঞান। আমাদের ধর্ম, সংস্কৃতি, মিথ, পুরাণ, ঐতিহ্যকে আমরা পরম্পরাগত ভাবে বহন করে চলেছি।‘গোবর গণেশ’, ‘ন্যাকা চৈতন্য’ বা ‘কানু হারামজাদা’ ইত্যাদি কথাগুলো আমাদের ঐতিহ্যের সঙ্গেই এমন এক নিবিড় যোগে যুক্ত যে তা কেটে বাদ দেওয়া সম্ভব নয়। নিখিল বিশ্বের সমস্ত জাতির সংস্কৃতিতেই তা আছে।এগুলোকে বাদ দিলে আমাদের ঐতিহ্য অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। রবীন্দ্রনাথ অনেক আগেই বুঝে ছিলেন যে ভারতের ইতিহাস ইতিহাস পুরাণ ঐতিহ্যের অন্তর্গত। প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মীয় মৌলবাদের সঙ্গে এইসবের দূর্ দূর্ পর্যন্ত কোন সম্বন্ধ নেই। 

আমাদের দুর্ভাগ্য, চরম দুর্ভাগ্য যে হালের এই ‘বিদ্যে বোঝাই’ প্রগতিশীল ও কর্পোরেট হিন্দুত্ববাদী তথা ধর্মীয় মৌলবাদীরা এই সব বুঝতে চান না। এই অশিক্ষিতের উল্লাস মঞ্চ আমার দেশ না।




২টি মন্তব্য:

Blogger দ্বারা পরিচালিত.