মহানবির দেশ আর কত মহাপাপ সইবে?






কোঠাসা রাজার মূল অস্ত্র অত্যাচার করা, তারপর গুমখুন, শেষমুহূর্তে ফাঁসির মঞ্চে কলুষিত নাটকের মঞ্চায়ন করা। এই থেকে জাতি কী শিখবে, কী বা লিখে রাখবে ইতিহাস! খোদ মহানবির জন্মস্থানে একের পর এক অপরাধের খবর শুনছে, দেখছে গোটা বিশ্ব। সম্প্রতি মুর্তাজা কুরেইরিস নামের এক কিশোরের মৃত্যুদণ্ডের খবরে সারা দুনিয়া উত্তাল। এই বিষয়ের উপর কয়েকটা প্রতিবেদন ও তথ্যে যেটুকু জানতে পারি তা হল:

   সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১১ সালে আরব বসন্তে উত্তাল কয়েকটি দেশ। সৌদি রাজতন্ত্রের নিপীড়ন-নির্যাতনের বিরুদ্ধে এবং গণতন্ত্রের দাবিতে ওই সময়ে দেশজুড়ে বিক্ষোভের সূচনা হয়। এরই অংশ হিসেবে মুর্তাজা কুরেইরিস বন্ধুদের নিয়ে সাইকেল নিয়ে রাজপথে নামে। ৩০ জন বন্ধুর দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছিল ১৩ বছর বয়সী মুর্তাজা কুরেইরিস। সে চিৎকার করে বলছে, সৌদিতে সবাই মানবাধিকার পরিস্থিতি উন্নত দেখতে চায়। মুর্তাজা কুরেইরিসের দুঃসাহস সৌদি কর্তৃপক্ষের নজর এড়ায়নি



   মুর্তাজা বিরুদ্ধে সৌদি প্রশাসনের অভিযোগ, ২০১১ সালে আরব বসন্তের সময় সৌদিতে গণতন্ত্রের দাবিতে বন্ধুবান্ধব জড়ো করে বিক্ষোভে নেমেছিল মুর্তাজা। এক সাইকেল র‍্যালিতে অংশ নিয়ে সৌদি সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছিল তারা। মুর্তাজা কুরেইরিস এক ‘সন্ত্রাসী গ্রুপ’ নিয়ন্ত্রণ করছে। যে অপরাধের শাস্তি শিরশ্ছেদ বা ফাঁসির মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, মুর্তাজার ভাই আলি কুরেইরিস মোটরসাইকেলে সৌদির পূর্বাঞ্চলীয় শহর আওয়ামিয়ার এক থানায় পেট্রলবোমা ছুড়ে মারেন। সে সময় তার সঙ্গে মুর্তাজাও ছিল। এ ঘটনার ৩ বছর পর মুর্তাজা কুরেইরিসকে বাহরাইন সীমান্তে গ্রেপ্তার করে সৌদি আরব সরকার। ওই দিন পরিবারের সঙ্গে সৌদি ছেড়ে প্রতিবেশী বাহরাইনে পালিয়ে যাচ্ছিল মুর্তাজা। সে ধরা পড়ে এবং ৫ বছর বিনা বিচারে কারাভোগ করার পর এখন তার ফাঁসির আদেশ এসেছে।

   তথ্য মতে জানা যায়, ২০১৯ সালে যদি এই ফাঁসি কার্যকর হয় তাহলে সৌদিতে মোট ৪ জন কিশোরকে ফাঁসিতে ঝোলানো হবে, যাদের বয়স ১৯-এর ঘরে।



   এই খবর শোনার পর বিশ্বের বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন-সহ বিভিন্ন মহলের মানুষ প্রতিবাদ করে আসছেন।

   হত্যা নয় বরং এর একটা সঠিক সুরাহা চাই।

   সামান্য প্রতিবাদ যার সহ্য হয় না, ক্ষমতায় অন্ধ যেখানে মূল্যবোধ, সেখানে অন্যায় যখন তখন মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। ফ্যাসিবাদ আর স্বৈরাচা ভাইভাই তাদের নির্মূলে চাই গণতন্ত্রপদ্ধতি।



   তাছাড়া সৌদির বেপরোয়া আচরণের উৎসব যেন চলছে যা দেখছি আমরা: ইয়ামেনে যুদ্ধ, কাতার অবরোধ, জামাল খাশোগিকে নির্মমভাবে হত্যা। এইতো ক’দিন হল নিউজে দেখলাম সৌদি আরবে নিজের দেশের আলেম উলামা বুদ্ধিজীবী কাউকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। জেলে পুরে এবং ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করছে।

   সৌদি শাসকেরা ক্রমেই মানুষের হৃদয় থেকে মুছে যাচ্ছে এর উপলব্ধি তাদের নেই।

   আমি শেষে পবিত্র কোরআন থেকে উদ্ধৃতি দিতে চাই: মহান আল্লাহ্‌ বলেন, আমি অত্যাচারী শাককে ক্ষমতা দিয়ে পরীক্ষা করি, এবং সে যত চায়, তার দ্বিগুণ আমি তাকে দিই। হে আল্লাহ্‌র রাসুল, আপনি বলে দিন ফেরাউনের কথা, তারা যেন পূর্বের ইতিহাস জেনে সচেতন হয়। ন্যায়বিচারে সদা দণ্ডায়মান থাকে। নিশ্চয় ন্যায় বিচারকদের জন্য মহান আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে সুসংবাদ রয়েছে



কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.